ফেডিভারসের প্রথম পাঠ

আন্তরজাল (Internet), তার মধ্যে জাল বোনা যাতে করে হাইপার টেকসটের মাধ্যমে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় যাওয়া যায়। অজস্র পাতা |

একটা সময় ছিল যখন পাতাগুলোতে শুধু হাইপারটেকসট থাকত, যাতে করে আমরা লিঙ্কের সরণী বেয়ে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় যেতাম এবং পড়তে পারতাম। এর পরবর্তী যুগে দেখা গেল, আমরা শুধু পড়ছি না, পাতাগুলোয় নিজের মন্তব্য রাখতে পারছি, পাতাগুলোর সঙ্গে এক ধরণের যোগসূত্র তৈরী হয়েছে।

এই বারে ব্যাপারটি একটু অন্যরকম হল, যে, বি নামের পেজ শুধু এ কে লিঙ্ক করছে তাই নয়, সে এ’র পাতায় গিয়ে নিজের মত কমেন্ট ইত্যাদি করে আসছে। এতে করে শুধু পাতাগুলো জুড়ে গেল তাই নয়, মানুষ এবং রোবট, যারা পাতাগুলো লিখেছিল, তাদেরও একটি পারস্পরিক যোগসূত্র তৈরী হল। আমরা বলতে শুরু করলাম,

এই ফলো করার ব্যাপারটা কি?

এই ব্যপারটিই তথাকথিত ‘সামাজিক মাধ্যম’ এর মূলসূত্র | অ বাবু একটি সার্ভারে একটি পাতা লিখবেন, আপনি অ বাবুকে ফলো (“অনুসরণ”) করলে আপনার পাতায় অ বাবুর লেখা, ছবি, ইত্যাদি ভেসে আসবে, কোন একটি নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সময়াক্রম অনুযায়ী।

বি একটি সার্ভারে নিজের একাউন্ট (“খাতা”) খুলেছেন, সেখানে সার্ভারের কর্তৃপক্ষ তাঁর জন্য একটি ওয়েব পেজ খুলে দিয়েছেন। প্রথম দিন, মানে খোলার সঙ্গে সঙ্গে বি এর পাতাটিতে নানান মানুষের লেখা পোস্ট দেখা গেল, কাউকেও বি চেনেন না। মোটামুটি সব সামাজিক মাধ্যমেই এইরকম একটি ব্যাপার দেখতে পাবেন,

এখানে X বা Y এর পোস্ট আপনার কাছে আসছে বটে, কিন্তু আপনি তাদের কাউকে চেনেন না। যেমন এইটা আমার টুইটারের পাতা (আজকের):

এটা নিয়ে আরেকটু চর্চা করে দেখা যাক, আসলে আপনার কাছে বেশ কতগুলো ব্যাপার আসছে, সেগুলো মোটামুটি এইরকম

লক্ষ করে দেখুন, যে ধরণের সোস্যাল মিডিয়া সাইটই হোক না কেন, আট-টা ব্যাপার সব জায়গাতেই থাকে:

এক, কেউ না কেউ পোস্ট করছে। তাদের কাউকে আপনি ফলো করেন, কাউকে করেন না, সে যাই হোক, আপনার সময়সারণীতে তারা আসছে

দুই, আপনি নিজের ইচ্ছেমতন কাউকে ফলো/আনফলো করতে পারেন

তিন, আপনি পোস্ট ভাল লাগলে ‘লাইক’ করতে পারেন।

চার, আপনি পোস্টের উত্তর দিতে পারবেন। এই ব্যাপারটি সোস্যাল মিডিয়ার প্রাণপাখী। যে মিডিয়াতে যত পোস্টের চালাচালি, সে তত ব্যস্ত, তত তার প্রভাব।

পাঁচ, আপনি নিজের মতন করে পোস্ট করতে পারবেন। কি পোস্ট করবেন, আপনার ব্যাপার, আপনি লেখা পোস্ট করতে পারেন, ছবি সাঁটাতে পারেন, লিঙ্ক পোস্ট করতে পারেন, এমনকি সেরকম হলে গান ইত্যাদিও দিতে পারেন। একেক ধরণের সোস্যাল মিডিয়া একেকটি বিষয়ে পারদর্শী |

ছয়, আপনি পোস্ট শেয়ার করতে পারবেন, মানে অন্য কারো পোস্ট আপনার ‘দেয়ালে’ লাগিয়ে দিতে পারবেন, তাতে করে আপনাকে যারা ফলো করে, তারাও দেখতে পারবে যে আপনি কোন জিনিস তাদের দেখাচ্ছেন।

সাত, আপনার নিজের ছবি সহ আত্মপ্রকাশ বা আত্মজীবনী প্রকাশ করার ব্যবস্থা (‘প্রোফাইল’) যেখানে আপনার ছবি, আপনার কাজ ইত্যাদি লিখে রাখতে পারেন।

আট, একটা সারণী যেখানে কে আপনাকে ফলো করল, কে আপনাকে ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠাল, দেখবার ব্যবস্থা।

তার মানে সামাজিক মাধ্যম কেবলমাত্র পড়ার জায়গা নয়, আপনার ভাবনা চিন্তা আলোচনা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ারও একটা জায়গা বটে। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে, আপনি কার কার সঙ্গে আপনার চিন্তা ভাগ করে নিচ্ছেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে না অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে। এইখানে ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি বাণিজ্যিক প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক মাধ্যম আর ফেডারেটেড মুক্ত বিশ্বের নেটওয়ার্কের মধ্যে একটা মস্ত তফাৎ |

ফেসবুক, টুইটার জাতীয় বাণিজ্যিক মাধ্যমগুলো আপনাকে তাদের কাছে আটকে রাখতে চায়, এবং আপনার যাবতীয় আলাপ আলোচনা কেবলমাত্র যারা তাদের সার্ভারে নাম লিখিয়েছে তাদের সঙ্গেই করা যেতে পারে। এর বিপ্রতীপে রয়েছে ম্যাসটোডন, ডায়াস্পোরা ধরণের সফটওয়্যার, যাদের মাধ্যমে সমগ্র আন্তর্জালে বিছিয়ে থাকা এই ধরণের সাইটগুলোতে যে যেখানে রয়েছে, তাদের সঙ্গে আপনি খোলাখুলি আলাপ আলোচনা করতে পারবেন।

এই লেখাটাতে বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে:

মোট কথা, Fediverse এর যে কোন একটি মাধ্যমে নাম লিখিয়ে খাতা খুলে আপনি মুক্ত ফেডিভারসের যে কোন অন্য সার্ভারের সঙ্গি যোগসূত্র স্থাপন করে লিখতে পড়তে পারবেন। আপনার প্রতিটি সার্ভারে নাম লেখানোর বা খাতা খোলার কোন প্রয়োজন নেই |

এর পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করব, কত রকমের ফেডিভারস অ্যাপ, এবং কোনটি কোন কাজে প্রশস্ত।

--

--

Professor @ University of Canterbury, Doctor, scholar, data scientist, Cantabrian. ENS: arinbasu.eth & mastodon instance: @arin_basu@mastodon.nzoss.nz

Get the Medium app

A button that says 'Download on the App Store', and if clicked it will lead you to the iOS App store
A button that says 'Get it on, Google Play', and if clicked it will lead you to the Google Play store