সত্যের ইতিহাসাশ্রয়ী ও ইতিহাসের সত্যাশ্রয়ী রূপ বিষয়ে দু-চার কথা

… (যে লেখাটির পরিপ্রেক্ষিতে এইকমেন্ট, সেটি এখানে পাবেন)

[Apologies to those who follow my blog and who do not speak/read/ Bengali language. Inagist, in this essay, I have critiqued an essay written by a fellow scholar whom I have known for several decades and who was my medical college classmate. India is going through a phase of post-truth and distortion of history by the ruling party and their leaders. There is a need to hold up the candle of truth to people. The title of my review is roughly translated as “The historical perspective of truth”. The original author has contented that religious fighting among the Hindus and Muslims as far as the common people were concerned were not regular before 1820s and has shown with evidence from historians that such narrative got built over time in colonial India. The impression that the ruling BJP party supporters of India want to project about Rabindranath Tagore, as if he was “anti-Muslim” in his views, is contested by Jayanta Bhattacharya who has contextualised the several quotes. I add to this a couple of things: one, that the Hindu fundamentalism and persecution is nothing new or novel, Hindus had one time all but annihilated the Buddhists from the homeland of Buddhhism, i.e., Indian (sub)continent. But that is an elephant in the room. Beyond that, it is not inevitable that people are stupefied. One can still bring about a change so that instead of blindly believing everything projected by the media, people need to learn to question.]

জয়ন্তবাবু লিখছেন, “রাষ্ট্র এক মানুষ-পিণ্ড তৈরি করতে পারবে যারা প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। শুধু দৌড়ে চলে নির্মিত মিথ্যা, অর্ধসত্য বা গুজবের পেছনে।”

আসলে কোন রাষ্ট্র-শক্তির পক্ষেই মানুষ-পিণ্ড “তৈরী” করার থেকেও আমার মনে হয় রাষ্ট্র-শক্তিকে দেশের মানুষ “তৈরী” করে, মেনে নেয়, “মান্যতা” প্রদান করে। সম্পর্কটি উল্টো | দেশের মানুষ যেমন, অন্তত সামগ্রিক হিসেবে মানুষের যে মানসিকতা, সেই সমস্ত দেশ বা অঞ্চলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মননও সেইভাবেই প্রবাহিত হয়। এ বাবদে বলা যেতে পারে যে বাঙালী তথা আপামর ভারতবাসীর মানসিকতায় গোড়া থেকে একটি সমস্যাকে ধরে তাকে বুঝতে চাওয়ার প্রবণতা নেই, বরং চটজলদি একটা সমাধান পেলেই সে খুশী। কাজেই যে রাষ্ট্রকে সে চায়, সেও যেন তার নিকট সমস্যার আশু সমাধান করে, সেইটুকুই সে ভাবে।শাসক ক্ষমতায় টিকে থাকতে এইটাই চায়, যাতে করে শত্রু খাড়া করে সমাধানের একটা খেলা চলে। যার জন্য অভিনেতা চাই, সুস্থ বুদ্ধির রাজনৈতিক বা সমাজের চিন্তাশীল নেতার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এই করতে করতে আপাতভাবে বাগ্মী অথচ অনেক বিষয়ে অন্তঃসারশূন্য মূর্খ একটি মানুষকে জাতীয় নেতা, এমনকি প্রধানমন্ত্রী বলে মেনে নিতেও তার আপত্তি নেই |লেখাটিকে দেশের তথা সমাজের এই পরিপ্রক্ষিত থেকে বিচার করে দেখছি | এবং এটা হালের সমস্যা নয়।

জয়ন্তবাবুর বর্ণিত রবীন্দ্রনাথের লেখার বিভিন্ন অংশ একটু ধরে পড়লে দেখা যাবে তিনিও ঘুরিয়ে এই কথাটি বলছেন। একটা উদ্ধৃতি তুলে দিই:

মানুষকে মানুষ বলিয়া গণ্য করা যাহাদের অভ্যাস নহে, পরস্পরের অধিকার যাহারা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে সীমাবদ্ধ করিয়া রাখিবার কাজেই ব্যাপৃত– যাহারা সামান্য স্খলনেই আপনার লোককে ত্যাগ করিতেই জানে, পরকে গ্রহণ করিতে জানে না– সাধারণ মানুষের প্রতি সামান্য শিষ্টতার নমস্কারেও যাহাদের বাধা আছে– মানুষের সংসর্গ নানা আকারে বাঁচাইয়া চলিতে যাহাদিগকে সর্বদাই সতর্ক হইয়া থাকিতে হয়– মনুষ্যত্ব হিসাবে তাহাদিগকে দুর্বল হইতেই হইবে। যাহারা নিজেকেই নিজে খণ্ডিত করিয়া রাখিয়াছে, ঐক্যনীতি অপেক্ষা ভেদবুদ্ধি যাহাদের বেশি, দৈন্য অপমান ও অধীনতার হাত হইতে তাহারা কোনোদিন নিষ্কৃতি পাইবে না।”

আজকের ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে হয়ত হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতাই বেশী আলোচিত, কাজেই প্রাক-ব্রিটিশ যুগের কথা বললে ওই সময়টি নিয়ে লিখছেন, তবে উদাহরণ আরো আছে। প্রাক ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার আরেকটি নমুনা ভারত থেকে বৌদ্ধধর্মের কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া |হিন্দুরা ভারত থেকে বৌদ্ধদের লুপ্ত করে দিয়েছিলেন | অবিশ্যি মুসলমানরাও বৌদ্ধদের রেয়াত করেনি, ১১৯৩ সালে বখতিয়ার খিলজি নালন্দা মহাবিহারের লাইব্রেরী ধ্বংস করে ৯০ লক্ষ বই পুড়িয়েছিলেন।

যাই হোক, আজকে রবীন্দ্রনাথকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এবং যেভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে পল্লবগ্রাহী ভঙ্গিতে রবীন্দ্রনাথকে কনটেকস্ট থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার চেষ্টা, এইটে নিন্দনীয় | ধর্মের নামে আঘাত এবং সংঘাতের ক্ষেত্র ভারতে বহুদিন ধরেই উর্বর, না হলে ১৮৫৭ থেকে একশো বছরের মধ্যে দেশটাকে দুটুকরো হয়ে যাওয়া একটা মহাদেশের ইতিহাস বড় মর্মান্তিক |

এখন যেটা বিশেষ করে সংকটের সেটা চিন্তাভাবনা করার স্বাধীনতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খর্ব করে রাজনীতি আর ধর্ম আর সমাজজীবনকে মিলিয়ে দেবার বিশ্রী একটি প্রবণতা। রবীন্দ্রনাথ ঠিক কোন কনটেকসটে কি বলেছিলেন এবং আর কি কি বলেছিলেন সেটা মনে করিয়ে দেওয়া নিশ্চয়ই আমাদের অবশ্যকর্তব্য, তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আরো দু-একটা কাজ বাকী রয়ে যায় | এক, মানুষের মধ্যে যা দেখি তাকে অবিশ্বাস করে নিজে যাচাই করার মানসিকতা গড়ে তোলা। এই কাজটি সহজ নয়, কারণ গুরুবাদের দেশে গুরুদের প্রশ্ন করা নিষেধ। দ্বিতীয়, এটা মনে রাখা দরকার যে, কিছু লোক অজ্ঞতার একটি পরিবেশ তৈরী করে কিছুদিন চালিয়ে যেতে পারে বটে, তবে, এই অন্ধকারও একদিন কাটবে। সেটা কিভাবে এবং কোন পথে তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে।

Associate Professor of Epidemiology and Environmental Health at the University of Canterbury, New Zealand. Also in: https://refind.com/arinbasu

Get the Medium app

A button that says 'Download on the App Store', and if clicked it will lead you to the iOS App store
A button that says 'Get it on, Google Play', and if clicked it will lead you to the Google Play store